আমাদের কথা:
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন এ বিশ্ব পরিমন্ডল সৃষ্টি করে মানুষকে তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়েছেন। আর তাঁর প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালনের জন্য মানুষকে দিয়েছেন জ্ঞান ও বিবেক। সুপ্ত বিবেককে জাগ্রত করতে হলে চাই আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানের অবাধ চর্চা ও নিবিড় অনুশীলন। আল্লাহ বলেন, “পড় তোমার রবের নামে যিনি তোমাকে সৃষ্টি করছেন।” সুতরাং এ পড়াটি যদি সংজ্ঞা প্রতিষ্ঠিত ও সার্বজনীন তা ব্যাহত হবে। যেমন, বলা হয় “Education is the harmonious development of body, mind and soul“ শরীর, মন ও আত্মার সুসামঞ্জস্য বিধানই শিক্ষা।
শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না। আর শিক্ষার জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী সিলেবাস, উপযুক্ত পরিবেশ এবং উন্নত পাঠদান পদ্ধতি। ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি অর্জনের একমাত্র মাধ্যম হল ইসলাম শিক্ষা। বর্তমানে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে যুগোপযোগী করার প্রচেষ্টা চলছে প্রতিনিয়তই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বর্তমান শিক্ষাদান পদ্ধতিতে পরিচালিত কোন আধুনিক প্রতিষ্ঠান নেই বললেই চলে। অপরদিকে এ শিক্ষাব্যবস্থায় কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক কারিকুলাম থাকা সত্ত্বেও আধুনিক বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির অপ্রতুলতার কারণে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের মাদরাসায় ভর্তি করতে আগ্রহী হন না। অথচ কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা থেকেই বেরিয়ে এসেছিলেন অঙ্কশাস্ত্রের অন্যতম বিষ্ময় আল খাওয়ারেজমী, দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী, ঐতিহাসিক ইবনে খালদুন, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ইবনে সিনাসহ অসংখ্য মনীষী।
তাই একবিংশ শতাব্দীর জ্ঞান বিজ্ঞানের উৎকর্ষতায় অবদান রাখতে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি সাধন এবং এ শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করার বিকল্প নেই। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এমন একদল সুশিক্ষিত আদর্শ নাগরিক তৈরি করেছিলেন, যারা সফলতার সাথে বিশ্ব পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছেন। মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য করে গড়ে তুলে ইসলামের মৌলিক সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে বিশ^সভায় মাথা উঁচু করে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে সৎ ও যোগ্যতাসম্পন্ন নাগরিক তৈরীর দৃঢ় প্রত্যেয়ে ২০১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে “ইকরা দারুল কুরআন মাদরাসার” পদযাত্রা। মহান আল্লাহ আমাদের মহতী উদ্যেগকে কবুল করুন-আমিন।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
নিয়ত শহিদের রক্তমাখা লাল সবুজের সমারোহে আবৃত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের কোমলমতি সন্তানদের সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শবান সুনাগরিক তৈরির মাধ্যমে আল্লাহর সন্তোষ অর্জনের জন্যে পরকালীন মুক্তি ও বিশ^দরবারে নিজেদের যোগ্যতার নিরিখে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
